পাম্পে নেই, দোকানে আছে—উন্নয়নের নতুন সংজ্ঞা! - Jamini Kishore Roy

Post Top Ad

পাম্পে নেই, দোকানে আছে—উন্নয়নের নতুন সংজ্ঞা!

Share This

এ এক আজব দেশ। এখানে সব কিছুই সম্ভব—অসম্ভব বলে কিছু নেই। বিশেষ করে সংকটকালীন সময় এলে আমরা যেন নতুন নতুন প্রতিভার জন্ম দিতে পারি। কেউ কবি হয়, কেউ বিশ্লেষক হয়, আর কেউ হয়ে ওঠে “জ্বালানী ব্যবসায়ী”—তাও আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কনসেপ্টে!


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানী সংকট চলছে—এটা নতুন কিছু নয়। খবরের কাগজ খুললেই দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ছে, সরবরাহ কমছে, সবাই একটু কষ্টে আছে। কিন্তু আমাদের দেশে বিষয়টা একটু আলাদা। এখানে সংকট মানেই একধরনের সৃজনশীলতার উৎসব।

সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী—দেশে কোনো জ্বালানী সংকট নেই। সব কিছু স্বাভাবিক। কিন্তু সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা যেন অন্য গল্প বলে। আপনি যদি একটু সাহস করে কোনো পেট্রোল পাম্পে যান, তাহলে বুঝবেন বাস্তবতা কতটা “স্বাভাবিক”। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শেষমেশ শুনতে হয়—“ভাই, তেল শেষ।”

কিন্তু এখানেই শেষ নয়, গল্পের আসল টুইস্টটা আসে এরপর। পাম্পে না পাওয়া সেই অকটেন বা পেট্রোল খুব সহজেই পাওয়া যাচ্ছে পাশের দোকানে—তবে একটু “বিশেষ দামে”! যেন এটি আর জ্বালানী নয়, কোনো বিরল আমদানিকৃত পারফিউম!


এ যেন এক নতুন অর্থনীতি—“পাম্প অর্থনীতি” নয়, “দোকান অর্থনীতি”। যেখানে সরবরাহের নিয়ম বইয়ে যা লেখা আছে, বাস্তবে তার উল্টোটা ঘটে। পাম্পে নেই, কিন্তু দোকানে আছে। এবং দাম? সেটা শুনলে আপনার গাড়ির চাকা না ঘুরলেও মাথা ঘুরে যেতে পারে।

আমাদের দেশের মানুষের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সংকট দেখলেই আমরা সুযোগ খুঁজে নিতে পারি। কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করে, আর কেউ সেই কষ্টকে পুঁজি করে ব্যবসা দাঁড় করায়। এই দক্ষতাই হয়তো আমাদের আলাদা করে—আমরা শুধু সমস্যা দেখি না, সমস্যা থেকে সম্ভাবনাও তৈরি করি!

তবে প্রশ্ন একটা থেকেই যায়—এই উন্নয়নটা আসলে কেমন উন্নয়ন? যেখানে একটি সাধারণ মানুষ তার প্রয়োজনীয় জিনিসটি স্বাভাবিক জায়গা থেকে পায় না, কিন্তু অস্বাভাবিক পথে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হয়—এটা কি উন্নতির লক্ষণ, নাকি ব্যবস্থার কোনো ফাঁক?

মজার ব্যাপার হলো, আমরা এই বিষয়গুলো নিয়ে খুব বেশি দিন অবাক থাকি না। প্রথমে একটু হৈচৈ করি, কিছু পোস্ট দেই, তারপর ধীরে ধীরে সব মেনে নিই। কারণ আমরা জানি—এটাই আমাদের বাস্তবতা। এখানে “অসাধারণ” জিনিসগুলোই একসময় “স্বাভাবিক” হয়ে যায়।

তবুও আশা করি, একদিন হয়তো আমরা এমন একটি সময় দেখবো, যখন পাম্পে গিয়ে সহজেই জ্বালানী পাওয়া যাবে, দোকানে গোপনে কিনতে হবে না। উন্নয়ন তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে—শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবেও।

ততদিন পর্যন্ত, আমাদের এই আজব দেশের আজব গল্পগুলো চলতেই থাকবে। আর আমরা? আমরা হয়তো হাসতে হাসতেই কষ্টটা সহ্য করে যাবো—কারণ এই হাসির আড়ালেই লুকিয়ে আছে আমাদের না বলা অনেক কথা।

Post Bottom Ad

Pages