নাড়ুদার চোখে দেশ: আমরা কি নিজের দেশেই ভাড়াটিয়া?
সেদিন নাড়ুদাকে জিজ্ঞাসা করলাম, “দাদা, দেশ নিয়ে এখন কী ভাবো?”
নাড়ুদা একটু ভেবে বলল, “দেশ নিয়ে এখন আর আগের মতো কিছু ভাবি না রে, যামিনী! আগে ছিলাম এ দেশে বাড়িওয়ালা, এখন হয়ে গেছি ভাড়াটিয়া।”
কথাটা শুনে থমকে গেলাম। নাড়ুদা আবার বলল, “ভাড়াটিয়াদের ভাড়া বাড়ি নিয়ে কিছু ভাবা না ভাবায় বাড়িওয়ালার কী আসে যায়?”
কথাগুলো নিছক রসিকতা মনে হলেও এর মধ্যে লুকিয়ে আছে গভীর এক আক্ষেপ। দেশ তো শুধু একটা ভূখণ্ডের নাম নয়; দেশ মানে অধিকার, সম্মান, নিরাপত্তা আর নিজের বলে কিছু ভাবার স্বাধীনতা। অথচ দেশেরই এক বিশাল জনগোষ্ঠীর মনে যদি প্রশ্ন জাগে—এই দেশে আমরা কি সত্যিই সমান মর্যাদার নাগরিক?
তাহলে সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার উপায় কোথায়? নাগরিকের পরিচয় শুধু ভোট দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; রাষ্ট্রের কাছে তার কণ্ঠস্বর, অধিকার ও প্রত্যাশারও মূল্য থাকতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ হোক কিংবা সংখ্যালঘু, ধনী হোক কিংবা দরিদ্র—দেশের প্রতিটি মানুষের সমান মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রাপ্য। কোনো মানুষকেই যেন নিজের জন্মভূমিতে পরবাসীর মতো বাঁচতে না হয়। কারণ, দেশ যদি সবার হয়, তবে দেশের অধিকার, সম্মান আর নিরাপত্তাও সবার হওয়া উচিত।
নাড়ুদার কথাটা তাই আজও মনে বাজে—আমরা কি সত্যিই এই দেশের নাগরিক, নাকি নিজের দেশেই ক্রমশ ভাড়াটিয়া হয়ে যাচ্ছি?
No comments:
Post a Comment