Evening Scenery - Jamini Kishore Roy

Post Top Ad

Evening Scenery

Share This
গোধূলির আবিরে রাঙা অস্তায়মান লাল সূর্য। দিনের শেষে থেমে আসে চারপাশের কর্মকোলাহল। প্রকৃতিতে নেমে আসে অন্যরকম এক প্রশান্তি। পশু-পাখি নীড়ে ফিরে যেতে থাকে। সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর শুরু হয় মানুষের ঘরে ফেরার পালা। চরাচরে সর্বএই বিরাজ করে এক নৈসর্গিক নীরবতা। সূর্যের রক্তিম আলোর ছটায় প্রকৃতি যেন অনরকম রঙে নিজেকে সাজায়। নদীর তীরে দাঁড়ালে সূর্যাস্তের এক মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়। বিস্তৃত নদীতীর, সামনে কল্লোলিত নদী, স্বর্গীয় অাভায় রাঙ্গনো আকাশ—এই শোভা, এই অপরূপ রূপের মাধুরী দেখে দু চোখের তৃষ্ণা যেন মেটে না। বিশ্বস্রষ্টা যেন নিজেকে আড়ালে রেখে মোহময় সৌন্দর্যের মধ্যে মানুষকে ডুবিয়ে রেখেছেন। রহস্যময় এক মায়ার জগৎ সৃষ্টি করে খেলছেন আড়ালে বসে। সূর্যাস্তের সময় নির্জন নদীতীরে দাঁড়ালে এমন অধ্যাত্ন-ভাবনা ভেসে আসে মনে। দিবসের অবসান আর রাএির আগমনের এই পৃথিবী যেন মিলন-বিরহের খেলায় মেতে ওঠে। আকাশ আর মাটি যেন মুখোমুখি মৌনমুখর। ছায়াঢাকা গ্রামের নিবিড় প্রেক্ষাপটে সূর্যাস্তের দৃশ্য ঘোমটা-টানা লাজুক বধূর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। নদীতীরে সূর্যাস্ত দেখতে গেলে বহুমাএিক সৌন্দর্য চোখে পড়ে। সামনে বিশাল জলরাশি,ওপরে রক্তিম উদার আকাশ,গোধূলি লগ্নে উন্মুক্ত নদীতীরে দাঁড়ালে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। আকাশের রক্তিম রঙে নদীর পানি রঙিন হয়ে ওঠে। এ সময় দিগন্তে দ্রুত রং বদলাতে থাকে। অস্তগামী সূর্যের লাল টিপ কপালে পরে পৃথিবী যেন নববধূর মতো সাজে। ঝিলিমিলি ঢেউখেলানো সোনারঙের পানিতে পালতোলা নৌকা ভেসে চলার দৃশ্য অপূর্ব লাগে। নদীর তীরে ঘেঁষে বাতাসের স্রোত সাঁতরে উরে চলে সাদা বক,গাঙচিল,বালিহাঁসের ঝাঁক। রক্তিম সূর্য তার উষ্ণতা বিলিয়ে লাল হতে হতে নিচে নামতে থাকে।




এক সময় মনে হয় নদী আর আকাশ যেন মিশে গেছে দিগন্তরেখায়। সূর্য যেন কান পেতে শুনছে পৃথিবীর গোপন বিষাদের সুর। তারপর সেই অগ্নিগোলক যেন নদীর বুকে টুপ করে ডুবে গেল। আঁধারে কালো চাদর আচ্ছন্ন করল চারদিক। চরাচরে ঝিঁঝির শব্দ,জোনাকির টিপটিপ আলো,ঝিরিঝিরি বাতাসে সৃষ্টি হয় নতুন এক আবেশ। কখনো সন্ধাকে মনে হয় যেন গ্রামের কিশোরী মেয়েটি, লাল-হলুদ ডুবে শাড়ি কোমরে পেঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নদীতীরে। পর মুহূর্তেই মনে হয়, এ তো নিছক কল্পনা মাএ। অস্তায়মান সন্ধার আবছা আঁধারে নদীর ছোট ছোট ঢেউয়ের ওপর বিচূর্ণ আলোর কারুকাজ সত্যিই বিস্ময়-জাগানিয়া। ইচ্ছে হয়, সেই ঢেউয়ের কারুকাজ একটু হাত রাখি। ছুঁয়ে দেখি আলোছায়ার বিচিএ লুকোচুরি। ঘনায়মান সন্ধ্যার অপরূপ রূপের মাধুর্য ধরে রাখি হৃদয়ে। কিন্তু বাস্তবে তা যে হবার নয়।নদীর সেই মন ভোলানো দৃশ্য সহজে কোন মানুষ কে দুর্বল করতে পারে। যেটা আমি হয়েছিলাম। নদীর সাথে কেমন যেন ভাব ভাব হয়ে গিয়েছিল। এ ছিল আমার ভাল একটা সময়। মানুষ অনেক ব্যস্ততার মাঝে দিন কাটায়। তাই হয়তো অনেকের এই মনোরম দৃশ্য উপভোগ করার সময় হয় না। আমি আপনাদের বলছি একবার নদীরতীরে আসুন না। কথা দিলাম আপনাদের সময় টা নষ্ট হবে না। নদীর পাশে কাশবন টা ছিল কিন্তু ফুল টা ফুটে নি তাই হয়তো দেখতে ভাল লাগে নি। কিন্তু আমার কাছে সব কিছুই অনেক ভাল লেগেছে। চরম একটা সময় ছিল যা বলে শেষ করা যাবে না। আমরা সবাই নদীরতীরে সূর্যাস্তর মনোরম দৃশ্য উপভোগ করছিলাম। আমার বন্ধুরাও হারিয়ে গিয়েছিল রুপ সাগরে। নদীর পানি যেন আমাদের ডাক দিচ্ছে তার কাছে যেতে বলছে। তার মায়া আমাদের টানছে। আমরা অনেক মজা করছিলাম। নদীরতীরে সূর্যাস্ত দেখার মজাই আলাদা জীবনের কোন কাজের সাথে এটার তুলনা হবে না।

















Post Bottom Ad

Pages