তাং ১১/০৪/২০১৯ইং
ভেবেছিলাম এবার পহেলা বৈশাখে বাড়িতে যাব । সুপ্রিয় ও পায়েল কেও বলেছিলাম বাড়িতে যাওয়ার কথা । বেশ কয়েক বছর থেকে বাড়িতে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে পারি নি ।ভাতিজা ভাতিজিও আশায় ছিল কাকু আসবে । কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর বাড়িতে যাচ্ছি না । আজ সন্ধ্যায় পায়েল কথা বলল ।

পায়েল: কেমন আছ কাকু?
আমি : ভাল আছি । তুমি কেমন আছ ? কি করছ ?
পায়েল : ভাল আছি ,বই পড়ছি । কাকু তুমি কবে বাড়িতে আসবে ?
আমি:দেরিতে যাব পায়েল ।
পায়েল:পহেলা বৈশাখে তোমার আসার কথা ছিল , তুমি চলে আসো কাকু । পহেলা বৈশাখের তো বেশি দিন নেই । তোমার সাথে একবারেও পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে যাই নি ।
আমি: বাড়িতে যাওয়া হবে না ।
পায়েল: হবে কাকু হবে ।
বললাম ,পরে যাব ,কিছু সমস্যা আছে ,অফিসের অনেকেই ছুটি নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছে তো । পায়েল বলল ,যাচ্ছে তো কি , তুমিও বাড়িতে চলে আসো । তিন চার দিনের ছুটি নিয়ে আসো কাকু ।
বললাম, বেশি দিন ছুটি দিবে না । সে বলল, এর আগের বার যে বাড়িতে এসেছিলে । কাকু চলে আসো , তোমার বিয়ে হলে তো আসবে না , তাই চলে আসো । পায়েলের কথা শুনে অবাক হয়ে গেলাম । বিয়ে করলে নাকি বাড়িতে যাব না !
বললাম ,কি কিনবে বল ? সে বলল,বাবা দুটা জামা কিনে দিয়েছে ,আরো একটা ঢাক ঢোলের জামা কিনে দেবে । বললাম ,শাড়ি নেবে না ? বলল,দু'টা শাড়ি আছে কাকু । বাসন্তি পুজা শুরু হয়েছে ,তুমি টাকা পাঠিয়ে দাও কাকু । কবে টাকা পাঠাবে তুমি ? বললাম ,কত টাকা লাগবে বল ? সে বলল, দাদার জন্য পাঁচ শ,আমার জন্য পাঁচ শ । বললাম ,তোমার ঠাকুরমার জন্য লাগবে না ? পায়েল বলল, দিদির জন্য তিন শ (আমরা সচরাচর ঠাকুরমাকে দিদি বলি)।
বললাম ,তোমার দিদির জন্যও পাঁচ শ দেব । আজ কে টাকা পাঠিয়ে দেব ।
ভেবেছিলাম পহেলা বৈশাখে বাড়িতে যাব । কিন্তু পাত্রি তো আর দেখা হবে না । তাই পরে সিদ্ধান্ত বদল করেছি । বার বার বাড়িতে গেলে অর্থনৈতিক একটা বড় ব্যাপার । মন তো চায় বাড়িতে যেতে । কতই বা বেতন পাই । তেইশ হাজার টাকা দিয়ে এর চেয়ে আর কত ভাল চলা যায় । দু মাস থেকে মৃণাল বস আর জি এম স্যারকে বলেছি বেতন বাড়ানোর ব্যাপারে ,তারা শুধু আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছে ,কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না ।
আগেই ঘোষনা দিয়েছিল ,এ মাসে বেতন দেবে না । শেষে আজ বেতন দিল । দিন দিন মালিক পক্ষের মনমানসিকতা বদলে যাচ্ছে । তারা যেন লোভী হয়ে যাচ্ছে । গত বছরের অর্জিত ছুটির টাকা তো এবার দিল না ,দেবে কিনা জানি না ।শুনতেছি না দেওয়ার জন্য অনেক কিছু নাকি বলছে মালিক পক্ষ । আমার কিছু ঋণ ছিল কোম্পানীর কাছে । আজ থেকে শোধ হল । খুব ভাল লাগছে ,সামনের দিন গুলোতে মাসের পুরো বেতনটাই পাব । নতুন বছরটা দেখি কি বার্তা নিয়ে আসে । ভাবছি ঈশ্বর মনে হয় ভাল কিছুই বয়ে নিয়ে আসবে তার ভক্তের জন্য ।
নিমোজ খানায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়েছিল যে কয়েক জনের উদ্যোগে তাদের মধ্যে আমিও একজন । এবার তেমন কিছু উদ্যোগ নেই । কয়েক দিন আগে তপুর সাথে এ ব্যাপারটা নিয়ে অনেক আলাপ করলাম । শেষে পহেলা বৈশাখে উদযাপন হবে । নিত্যানন্দ কল দিল । বললাম আজই পাঁচ শ টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছি । আমার কথা হল ,এলাকায় আমরাই প্রথম পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা শুরু করেছি । এলাকার লোক জন,ছেলে মেয়েরা শিখেছে বৈশাখী পোশাকের ব্যবহার । এখন যদি এ উৎসব উদযাপন বন্ধ হয়ে যায় ,তবে তা খুবই দুঃখের ব্যাপার হবে ।
তপুকে বলেছিলাম, সকালে রেলী,দিন ব্যাপী অঙ্কন প্রতিযোগীতা,আবৃতি,নাচ,কৌতুক এবং অন্যান্য কিছু যদি করা যায় এসব করতে হবে । অল্প বাজেটেই সব কিছু করতে হবে ।যাক শেষ পর্যন্ত ছেলেরা উদ্যোগ নিয়েছে শুনে ভাল লাগছে । রাতে দুই হাজার টাকা পাঠিয়ে দিলাম ব্রজোদার কাছে । মা,সুপ্রিয় আর পায়েল এর জন্য দেড় হাজার টাকা , পহেলা বৈশাখের জন্য পাঁচ শ টাকা । রাতে বাসায় এসে দেখি ,পাশের বাসার ভাবি পিঠাপুলি পাঠিয়েছে । মনটা আজ অনেকটাই ভাল যদিও বাড়িতে না যাওয়ার কষ্ট টা রয়ে গেল । সেই সাথে বেতন বৃদ্ধি না হওয়ার কষ্টটা । জি এম সুদীপ বাবু শুধু আশ্বাসই দিল ,কাজের কাজ কিচ্ছু হল না । দেখি সামনের বছর কি হয় ।
ভাল লাগার মধ্যে কোম্পানীর কাছে যে লোন করেছিলাম তা শোধ হল । নিমোজখানায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন হবে ,বাড়িতে এবং পহেলা বৈশাখের টাকা পাঠিয়ে দিলাম । বাসায় এসে দেখি পাশের বাসার ভাবি পিঠাপুলি পাঠিয়েছে ।
পুরাতন বছরের সব গ্লানি আর জঞ্জাল গুলি যদি এভাবে দুর হয়ে যায় তবে খুবই ভাল হবে । আমার কেন জানি মনে হচ্ছে ,ঈশ্বর নতুন বছরে আমার জন্য ভাল কিছু পাঠিয়ে দেবে । নতুন বছর যেন সবার ভাল কাটে ,সবাই যেন ভাল থাকে এটাই প্রার্থনা করি ।
ভেবেছিলাম এবার পহেলা বৈশাখে বাড়িতে যাব । সুপ্রিয় ও পায়েল কেও বলেছিলাম বাড়িতে যাওয়ার কথা । বেশ কয়েক বছর থেকে বাড়িতে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে পারি নি ।ভাতিজা ভাতিজিও আশায় ছিল কাকু আসবে । কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর বাড়িতে যাচ্ছি না । আজ সন্ধ্যায় পায়েল কথা বলল ।

পায়েল: কেমন আছ কাকু?
আমি : ভাল আছি । তুমি কেমন আছ ? কি করছ ?
পায়েল : ভাল আছি ,বই পড়ছি । কাকু তুমি কবে বাড়িতে আসবে ?
আমি:দেরিতে যাব পায়েল ।
পায়েল:পহেলা বৈশাখে তোমার আসার কথা ছিল , তুমি চলে আসো কাকু । পহেলা বৈশাখের তো বেশি দিন নেই । তোমার সাথে একবারেও পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে যাই নি ।
আমি: বাড়িতে যাওয়া হবে না ।
পায়েল: হবে কাকু হবে ।
বললাম ,পরে যাব ,কিছু সমস্যা আছে ,অফিসের অনেকেই ছুটি নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছে তো । পায়েল বলল ,যাচ্ছে তো কি , তুমিও বাড়িতে চলে আসো । তিন চার দিনের ছুটি নিয়ে আসো কাকু ।
বললাম, বেশি দিন ছুটি দিবে না । সে বলল, এর আগের বার যে বাড়িতে এসেছিলে । কাকু চলে আসো , তোমার বিয়ে হলে তো আসবে না , তাই চলে আসো । পায়েলের কথা শুনে অবাক হয়ে গেলাম । বিয়ে করলে নাকি বাড়িতে যাব না !
বললাম ,কি কিনবে বল ? সে বলল,বাবা দুটা জামা কিনে দিয়েছে ,আরো একটা ঢাক ঢোলের জামা কিনে দেবে । বললাম ,শাড়ি নেবে না ? বলল,দু'টা শাড়ি আছে কাকু । বাসন্তি পুজা শুরু হয়েছে ,তুমি টাকা পাঠিয়ে দাও কাকু । কবে টাকা পাঠাবে তুমি ? বললাম ,কত টাকা লাগবে বল ? সে বলল, দাদার জন্য পাঁচ শ,আমার জন্য পাঁচ শ । বললাম ,তোমার ঠাকুরমার জন্য লাগবে না ? পায়েল বলল, দিদির জন্য তিন শ (আমরা সচরাচর ঠাকুরমাকে দিদি বলি)।
বললাম ,তোমার দিদির জন্যও পাঁচ শ দেব । আজ কে টাকা পাঠিয়ে দেব ।
ভেবেছিলাম পহেলা বৈশাখে বাড়িতে যাব । কিন্তু পাত্রি তো আর দেখা হবে না । তাই পরে সিদ্ধান্ত বদল করেছি । বার বার বাড়িতে গেলে অর্থনৈতিক একটা বড় ব্যাপার । মন তো চায় বাড়িতে যেতে । কতই বা বেতন পাই । তেইশ হাজার টাকা দিয়ে এর চেয়ে আর কত ভাল চলা যায় । দু মাস থেকে মৃণাল বস আর জি এম স্যারকে বলেছি বেতন বাড়ানোর ব্যাপারে ,তারা শুধু আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছে ,কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না ।
আগেই ঘোষনা দিয়েছিল ,এ মাসে বেতন দেবে না । শেষে আজ বেতন দিল । দিন দিন মালিক পক্ষের মনমানসিকতা বদলে যাচ্ছে । তারা যেন লোভী হয়ে যাচ্ছে । গত বছরের অর্জিত ছুটির টাকা তো এবার দিল না ,দেবে কিনা জানি না ।শুনতেছি না দেওয়ার জন্য অনেক কিছু নাকি বলছে মালিক পক্ষ । আমার কিছু ঋণ ছিল কোম্পানীর কাছে । আজ থেকে শোধ হল । খুব ভাল লাগছে ,সামনের দিন গুলোতে মাসের পুরো বেতনটাই পাব । নতুন বছরটা দেখি কি বার্তা নিয়ে আসে । ভাবছি ঈশ্বর মনে হয় ভাল কিছুই বয়ে নিয়ে আসবে তার ভক্তের জন্য ।
নিমোজ খানায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়েছিল যে কয়েক জনের উদ্যোগে তাদের মধ্যে আমিও একজন । এবার তেমন কিছু উদ্যোগ নেই । কয়েক দিন আগে তপুর সাথে এ ব্যাপারটা নিয়ে অনেক আলাপ করলাম । শেষে পহেলা বৈশাখে উদযাপন হবে । নিত্যানন্দ কল দিল । বললাম আজই পাঁচ শ টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছি । আমার কথা হল ,এলাকায় আমরাই প্রথম পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা শুরু করেছি । এলাকার লোক জন,ছেলে মেয়েরা শিখেছে বৈশাখী পোশাকের ব্যবহার । এখন যদি এ উৎসব উদযাপন বন্ধ হয়ে যায় ,তবে তা খুবই দুঃখের ব্যাপার হবে ।
তপুকে বলেছিলাম, সকালে রেলী,দিন ব্যাপী অঙ্কন প্রতিযোগীতা,আবৃতি,নাচ,কৌতুক এবং অন্যান্য কিছু যদি করা যায় এসব করতে হবে । অল্প বাজেটেই সব কিছু করতে হবে ।যাক শেষ পর্যন্ত ছেলেরা উদ্যোগ নিয়েছে শুনে ভাল লাগছে । রাতে দুই হাজার টাকা পাঠিয়ে দিলাম ব্রজোদার কাছে । মা,সুপ্রিয় আর পায়েল এর জন্য দেড় হাজার টাকা , পহেলা বৈশাখের জন্য পাঁচ শ টাকা । রাতে বাসায় এসে দেখি ,পাশের বাসার ভাবি পিঠাপুলি পাঠিয়েছে । মনটা আজ অনেকটাই ভাল যদিও বাড়িতে না যাওয়ার কষ্ট টা রয়ে গেল । সেই সাথে বেতন বৃদ্ধি না হওয়ার কষ্টটা । জি এম সুদীপ বাবু শুধু আশ্বাসই দিল ,কাজের কাজ কিচ্ছু হল না । দেখি সামনের বছর কি হয় ।
ভাল লাগার মধ্যে কোম্পানীর কাছে যে লোন করেছিলাম তা শোধ হল । নিমোজখানায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন হবে ,বাড়িতে এবং পহেলা বৈশাখের টাকা পাঠিয়ে দিলাম । বাসায় এসে দেখি পাশের বাসার ভাবি পিঠাপুলি পাঠিয়েছে ।
পুরাতন বছরের সব গ্লানি আর জঞ্জাল গুলি যদি এভাবে দুর হয়ে যায় তবে খুবই ভাল হবে । আমার কেন জানি মনে হচ্ছে ,ঈশ্বর নতুন বছরে আমার জন্য ভাল কিছু পাঠিয়ে দেবে । নতুন বছর যেন সবার ভাল কাটে ,সবাই যেন ভাল থাকে এটাই প্রার্থনা করি ।
No comments:
Post a Comment