ক‌বিতার ডা‌য়ে‌রি ,পর্ব - ৪ ( ৬১- ৮১ নং পর্যন্ত ) - Jamini Kishore Roy

ক‌বিতার ডা‌য়ে‌রি ,পর্ব - ৪ ( ৬১- ৮১ নং পর্যন্ত )

Share This

যা‌মিনী রা‌য়ের ক‌বিতা


                 ~:  লু‌কি‌য়ে আছে  : ~ ৬১

এই‌যে দে‌খি অনাদ‌রে কত ছে‌লে মে‌য়ে
প‌থে ঘা‌টে,গাছতলায় ফুটপা‌তে নদী তী‌রে ,
‌কে জা‌নে কত জ্ঞানী গু‌নি মহাজন
লু‌কি‌য়ে‌ আছে এদের ভি‌ড়ে ।
কখ‌নো কি মোরা চে‌য়ে দে‌খি ও‌দের
যারা প‌ড়ে আছে অনাদ‌রে আনা‌চে কাঁনা‌চে ,
বুঝ‌তে কি চাই ওরাও হ‌তে পা‌রে জগৎ বিখ্যাত
কত প্র‌তিভা লু‌কি‌য়ে আছে ও‌দের মা‌ঝে ।
‌শেক্সপিয়ারও ছি‌লেন এক‌দিন অতি নগন্য বালক,লু‌কি‌য়ে ছিল কত ব‌ঞ্চিত বাল‌কের ভি‌ড়ে,
ঘু‌রে‌ছেন স্টার্ট‌ফো‌ডের প‌থে নগন্য ভা‌বে
‌হেঁ‌টে‌ছি‌লেন অ্যাভন নদীর তী‌রে ।
‌সে‌দিন কে জানত এই বাল‌কের ভি‌ড়ে
লু‌কি‌য়ে আছেন সর্বকা‌লের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ,
যখন তি‌নি ঘুর‌তেন প‌থে ঘা‌টে একাকী
‌কে নি‌তো খোঁজ তার ।
আবার সেই রু‌টির দোকা‌নের ছে‌লেটার কথাই ব‌লি,কাজ ক‌রত দোকা‌নে ,গাই‌তো গান ,
‌সে‌দিন কে জানত সেই ছে‌লেটা এত বড় হ‌বে
হ‌বে বড় প্র‌তিভাবান ।
কার মা‌ঝে লু‌কি‌য়ে আছে কি প্র‌তিভা
‌কে যে কখন কি হয় ,
তাই অকার‌ণে কাউ‌কে দে‌খে
তা‌চ্ছিল্য করা ভাল নয় ।


           ~: কখনও কি :~ ৬২


কখনও কি দে‌খেছ তোমরা
পা‌খির মেলা নদী তী‌রে ,
কখনও কি দে‌খেছ
‌কেমন ক‌রে নদী চ‌লে মা‌ঠের বুক চি‌রে ।
নদী তীর কখনও কি তোমা‌দের
মন কা‌ড়ে ?
‌বসে দে‌খেছ কি বি‌কেল বেলা
কত আনন্দ পুকুর পা‌ড়ে ।
‌তোমা‌দের চো‌খে প‌ড়ে কি কখনও
‌মে‌ঠো প‌থে সাদা ভাঁটফুল ,
শরৎকা‌লে দে‌খেছ কি কখনও
কাঁশফু‌লে ভরা নদী কূল ।
রা‌তের বেলা ঝোঁ‌পের কা‌ছে
‌কেম‌নে জোনা‌কি জ্ব‌লে ,
কখনও কি দে‌খেছ তোমরা
‌কেম‌নে বুঁ‌নো হাঁস দল বেঁ‌ধে চ‌লে ।
‌তোমা‌দের চো‌খে প‌ড়ে‌ছে কি কখনও
‌কেম‌নে চ‌লে শামুক ঝিনুক ,
মাছ রাঙা পা‌খি মা‌ছের ধ্যা‌নে
ক‌ঞ্চি‌তে হ‌য়ে আছে চুপ ।
বর্ষায় আনা‌চে কাঁনা‌চে,‌ডোবা নালায়
‌কেমন ক‌রে ডা‌কে ভেক,
কখনও কি দে‌খেছ চে‌য়ে
‌কেম‌নে ছু‌টে চ‌লে বাঁধন হারা মেঘ ।
কখনও কি দে‌খেছ তোমরা
পান কৌ‌ড়ি কেম‌নে জ‌লে ডু‌বে ,
‌ভো‌রের র‌বি আবির র‌ঙে
‌কেম‌নে উঠে পূ‌বে ।
‌দে‌খেছ কি ক্ষে‌তের মা‌ঝে
হাওয়ায় দু‌লি নাচ ,
‌কেমন ক‌রে নে‌মে আসে
ধরণী‌তে কা‌লো সাঁঝ ।


                ~: প্রেয়সী ;~ ৬৩

প্র‌তি‌টি প্রে‌মি‌কের চো‌খে শ্রেষ্ঠ সুন্দরী
আপন প্রেয়সী ,
আর যত নারী সবই ভুল ম‌নে হয়
তাই প্রেয়সী‌কে এত ভালবা‌সি ।
সবার চে‌য়ে বে‌শি ভালবা‌সি প্রেয়সী‌কে
হৃদ‌য়ের ভালবাসা উজার ক‌রে দেই ,
‌চোখ জু‌ড়ে থা‌কে শুধু প্রেয়সীর ছ‌বি
হৃদ‌য়ে প্রেয়সী ছাড়া কা‌রো ঠাঁই নেই ।
‌প্রেয়সী‌কে নি‌য়ে কত স্বপ্ন দে‌খি
আশায় বাঁ‌ধি বুক ,
হাজার নারীর ভি‌ড়ে চো‌খের পাতায়
‌ভে‌সে উঠে শুধু প্রেয়সীর মুখ ।
‌প্রে‌মের পর‌শে প্রেয়সীর প্রে‌মে
প্র‌ত্যে‌কে হ‌য়ে উঠি ক‌বি ,
ম‌নে প্রা‌ণে সবখা‌নে আঁকি
শুধু প্রেয়সীর ছ‌বি ।
পৃ‌থিবী‌তে প্রেয়সীর মত
ম‌নে হয় আর কেউ নেই ,
হৃদ‌য়ের শত ব্যথা শত জ্বালা
ভু‌লে যাই প্রেয়সীর একটু পর‌শেই ।
‌প্রে‌মি‌কের চো‌খে প্রেয়সী য‌দি
‌শ্রেষ্ঠ সুন্দরী না হত ,
ত‌বে কি আর প্রে‌মিক প্রেয়সী‌কে
কভু ভাল বাস‌তো এত ?
‌প্রেয়সীর সা‌থে কি কা‌রো
কভু তুলনা হয় ,
‌প্রে‌মি‌কের চো‌খে প্রেয়সী ছাড়া
‌কেউ এত সুন্দরী নয় ।
তাই প্রেয়সী‌কে কা‌ছে পে‌য়ে
বড় হই যে খু‌শি ,
প্র‌তি‌টি প্রে‌মি‌কের চো‌খে শ্রেষ্ঠ সুন্দরী
আপন প্রেয়সী ।


                ~: আশা :~ ৬৪

আশা সে কি ম‌রিচীকা
‌মোরা আশা ক‌রে কত কি যে চাই ,
যা চাই তা ভুল ক‌রে চাই
যা চাই না তাই তো পাই ।
আশায় আশায় পথ চ‌লি
যাই বহুদুর ,
প‌থি ম‌ধ্যে শু‌নি তবু
আশারই সুর ।
আশা আশা আশা
আশার নেই শেষ ,
আশা আছে তাই বেঁ‌চে আছি
এই তো জা‌নি বেশ ।
কত আশা পূর্ণ হয়
কত যে অপূরণ থা‌কে ,
তবুও কি আশা ছা‌ড়ি
যা পাই‌নি চাই আরও তা‌কে ।
যখন যা চাই ,বহু সাধনার প‌রে
হয়‌তো ঠিকই পাই ,
ক্ষন প‌রে ভু‌লে গি‌য়ে নতুন কিছু পাবার আশায়
আবার হ‌ন্যে হ‌য়ে যাই ।
এত কিছু হত না পৃ‌থিবী‌তে
আশা না থাক‌তো য‌দি ,
এ সংসার সাগর মা‌ঝে চির‌দিন
ব‌য়ে চল‌বে আশার ভেলা নিরব‌ধি ।


         ~: মমতাময়ী :~ ৬৫

নারীরা মমতাময়ী মমতা ক‌রে দান
তা‌দেরই অনু‌প্রেরণায় নর হয় আগুয়ান ।
নারীর বুক ভরা ভালবাসা আরও সুন্দর মন
ভালবাসা সেবা দা‌নে ভরা‌য়ে‌ছে ভূবন ।
নারীর শ‌ক্তি‌তে নর অকু‌তোভয়
তাই চিরকাল সবখা‌নে হ‌য়ে‌ছে ন‌রের জয় ।
‌যেথায় নারী নেই শূন্য সে স্থান
নারীর পর‌শে পৃ‌থিবী হ‌য়ে‌ছে মহান ।
নারী ব্য‌তিত সম্পূর্ণতা পায় না নর
নারী না থাক‌লে কভু নর হত না বর ।
তবুও কি তারা শুধু করুণার পাত্রী
তাই দে‌খি সয় কত জ্বালা যন্ত্রণা দিবা রাত্রী ।
নারীর মমতা নি‌য়ে‌ছি তাই দি‌তে হ‌বে প্র‌তিদান
ন্যায্য অধিকার দি‌তে হ‌বে বাড়া‌তে নারীর মান ।
যারা জীবন ভ‌রি‌য়ে দিল অকৃ‌ত্রিম ভাল‌বে‌সে
স্থান দি‌তে হ‌বে তা‌দের ন‌রের পা‌শে ।
নারীরা গৃহলক্ষ্মী সমা‌জের অর্ধঅঙ্গ
সু‌খে দুঃ‌খে ন‌রের দি‌য়ে‌ছে কত সঙ্গ ।
য‌দি এগি‌য়ে যে‌তে চাও সর্ব‌ক্ষে‌ত্রে হ‌য়ে সর্বজয়ী
ত‌বে পা‌শে রেখ নারী‌কে ,এরা যে মমতাময়ী ।


               ~: এখ‌নো অনেক বাকী :~ ৬৬

‌হে ভ্রান্ত প‌থিক
এমন ক‌রে ভাবছ তু‌মি কেন ?
‌তোমার ম‌তে শূন্য পৃ‌থিবী
করার মত কাজ বাকী নেই যেন ।
তাই‌ ভাবছ এখন আপন ম‌নে
‌কি করব হায় ,
সব কিছুই যে হ‌য়ে গে‌ছে
এম‌নি ক‌রে সময় চ‌লে যায় ।
অজ্ঞ তু‌মি অবুঝ তু‌মি
বলব তোমায় আমি ,
কা‌জের ভি‌ড়ে কাজ পাওনা
তু‌মি কি‌সের মু‌ক্তিকামী ।
এখ‌নো তু‌মি হ‌তে পার
মহৎ উদার লোক ,
প‌রের হি‌তে কাজ ক‌রে
সারা‌তে পার যত রোগ শোক ।
এখ‌নো পৃ‌থিবী‌তে কত জন
হাহাকা‌রে ম‌রে ,
‌দেখ‌তো কোন কাজ আছে কি না
তা‌দের ত‌রে ।
ই‌চ্ছে কর‌লেই তুল‌তে পার
আপন গা‌নের সুর ,
ধরণীর যত পাপ প‌ঙ্কিলতা
ক‌রি‌তে পার দূর ।
ধূলীর ধরণী‌তে র‌য়ে‌ছে এখ‌নো
কত কাজ বাকী ,
‌দেখ চা‌হিয়া তোমার চা‌রিপা‌শে
র‌য়ে‌ছে কত অন্ধ আঁখি ।
ই‌চ্ছে কর‌লেই দি‌তে পার
অন্ধ আঁখি‌রে আলো ,
‌ভে‌বে দেখ‌তো ভাল ক‌রে
এর চে‌য়ে কি কাজ আছে ভা‌লো ।
অথচ তু‌মি ভে‌বে ভে‌বে ম‌রো
পাওনা কাজ খুঁ‌জে ,
এতক্ষ‌ণে ছি‌লে বু‌ঝি
দুই চোখ বুঁ‌জে ।
এই ধরণীর সর্বত্র ছড়া‌য়ে
আ‌ছে কত কাজ ,
জ্ঞান চক্ষু খু‌লে দেখ
ভাল ক‌রে আজ ।
কাজ নেই কাজ নেই ব‌লে
হতাশ হ‌য়ো না বার বার ,
যা করবার শুরু কর
‌থে‌মে থে‌কো না আর ।


                ~: বাদুড় :~ ৬৭

বাদুড় রে বাদুড়
তুই মোর মিতা ,
‌কোন্ ফল খা‌বে বাগা‌নের
সব ফল তিতা ।
‌দোস্ত তুই বন্ধু তুই
তুই বড় চোর ,
র‌া‌তে এসে বাগা‌নে প‌ড়িস
অনুম‌তি নিস্ না মোর ।
চুপ ক‌রে বাগা‌নে প‌ড়িস
য‌দি টের পাই পা‌ছে ,
অল্প ফল ধ‌রে‌ছে রে ভাই
‌মোর বাগা‌নের গা‌ছে‌ ।
বাবু‌দের বাগা‌নে যাস্ না তুই
গা‌ছে দি‌য়ে‌ছে জাল ,
আ‌মি শুধু দেই নি তাই
কপালটা তোর ভাল্ ।
সময় পে‌লে বাগা‌নে আসিস
‌কোন বাঁধা নাই ,
ফল খে‌তে এলে যেন
‌তোমার দেখা পাই ।


            ~: সেই বি‌কেল গু‌লো :~ ৬৮

আমার ছে‌লে‌বেলার বি‌কেল গু‌লো অন্যভা‌বে কাটত,
কখ‌নো নদী তী‌রে কখ‌নো পুকুর পা‌ড়ে,
‌কি‌যে এক আকর্ষ‌নে ছুটতাম বা‌রে বা‌রে
তাই দে‌খে মা ঠাকুর মা খুবই বক‌তো ।
নদী তী‌রে রাখা‌লের সা‌থে কাট‌তো বি‌কেল বেলা
ওরা গরু চরাত আর বাজা‌তো বাঁ‌শের বাঁ‌শি ,
তাই‌তো বি‌কেল হ‌লেই নদী তী‌রে ছু‌টে আসি
নদী তী‌রে কখনও দেখতাম চখাচ‌খির মেলা ।
কখনও বসতাম নদীর বাঁশের সাঁ‌কোটার প‌ড়ে
ব‌সে ভাবতাম কত কি ,দৃ‌ষ্টি থাক‌তো দু‌রে
‌সেই বি‌কেল গু‌লো কভু পাবনা ফি‌রে আর ;
‌ছোট বেলায় বি‌কেল বেলা থাকতাম না ঘ‌রে
মুক্ত প্রকৃ‌তির চেহারা দেখতাম একাকী ঘু‌রে
‌সেই বি‌কেল গু‌লো আজ ম‌নে প‌ড়ে বার বার ।




            ~: ভরা ভাদ‌রে :~ ৬৯

‌কি ক‌রি কোথা যাই
এমন ভরা এ ভাদ‌রে ,
আজ নেই কোন তাড়া কাজ কর্ম
শুধু বা‌রে বা‌রে তা‌রে ম‌নে প‌ড়ে ।
‌নিস্তব্ধ প্রকৃ‌তি আজ
পাতা ন‌ড়ে বৃ‌ষ্টির ঝাপটায়,
এমন ল‌গ্নে য‌দি পেতাম তা‌রে
‌কেমন হত হায় !
কত কথা কত গান হৃদ‌য়ে জা‌গে
আ‌জি এ ভরা ভাদ‌রে ,
য‌দি পা‌শে থাক‌তো সে
বলতাম শুধু তা‌রে ।
শুন্য হৃদয় আজ মোর
‌কেউ নেই পা‌শে ,
দর দর ঝরে বা‌রিধারা ছল ছল যেন আঁখি
স্মৃ‌তি শুধু আজ হৃদ‌য়ে ভা‌সে ।
আকাশ কাঁ‌দে যেন আজ
তাই ঝ‌রে বা‌রিধারা ,
‌মোর মন কাঁ‌দে আজ
‌যেন আমি সর্বহারা ।
অতীত স্মৃ‌তি গু‌লো রে‌খে‌ছি লি‌খে
স্মৃ‌তির খাতায় ,
আজ তাই বা‌রে বা‌রে
এমন ভরা ভাদ‌রে ম‌নে প‌ড়ে যায় ।


               ~: প্রত্যু্ষে :~ ৭০

পা‌খি ডা‌কে কি‌চির মি‌চির
হল বু‌ঝি ভোর ,
অলসতায় না শু‌য়ে
খু‌লে দাও দোর ।
ঘর ছে‌ড়ে জল‌দি ক‌রে
বাই‌রে তোরা আয় ,
‌দেখ রে নির্মল প্রকৃ‌তি আজ
হৃদয় জুড়াও মৃদু মন্দ বায় ।
পাই‌বি কোথা এমন নির্মল
‌ভো‌রের শীতল হাওয়া ,
এ‌যে স্বর্গ সুধার ন্যায়
‌যেন লক্ষ টাকার দাওয়া ।
‌ভো‌রের হাওয়ায় হ‌বি তোরা
‌নি‌রোগ সবল স‌তেজ ,
পাই‌বি কত সু‌খের ছোঁয়া
সবখা‌নে‌তে খু‌শির আমেজ ।
শুন‌বে কত পা‌খির গান
‌দেখ‌বে কেম‌নে সূর্য ও‌ঠে ,
ফুল বা‌গিচায় কেম‌নে ফুল
রই‌বে থোকায় ফু‌টে ।
অলসতায় বিছানায়
শু‌য়ে থা‌কে যার‌া ,
‌ভো‌রের এ প্রকৃ‌তি কভু
‌দে‌খি‌তে পায় না তারা ।


              ~: এ ভা‌বেই :~ ৭১

জা‌নি নিঃ‌শেষ হ‌য়ে যাব এক‌দিন
যাবার আগে কিছু কাজ ক‌রে যাব ,
হয়‌তো বড় কিছু হ‌তে পারব না
মানু‌ষের সংবর্ধনা হয়‌তো নাই বা পাব ।
পৃ‌থিবীর কিছুই হয়‌তো দে‌খে যে‌তে পারব ন‌া
ই‌তিহা‌সের পাতায় নামটা থাক‌বে না ,
আমা‌কে স্ম‌রি কোন স্মরণ সভা হ‌বে না
মানুষ হয়‌তো মো‌রে ম‌নে কভু রাখ‌বে না ।
তবুও মানু‌ষের ত‌রে পৃ‌থিবী প‌রে
ক‌রে যাব ছোট ছোট মহৎ কাজ ,
সবা‌রে দেব ভালবাসা এ মোর আশা
এ‌তে নেই ভয় নেই কোন লাজ ।
‌হোক এ কাজ মোর ক্ষুদ্র অতি
নাই বা পেলাম প্র‌তিদান ,
‌গোপ‌নে গোপ‌নে ক‌রে যাব মানু‌ষের সেবা
নাই বা করুক লো‌কে মোর জ‌য়োগান ।
ম‌নের ম‌ন্দি‌রে মানু‌ষের নাই বা পেলাম স্থান
ক্ষ‌তি নাই র‌য়ে যাই য‌দি অগোচ‌রে ,
য‌দি মোর ত‌রে নাই বা কাঁ‌দে কেউ
পুষ্পাঞ্জলী না দেয় মোর সমাধী প‌রে ।
একাকী র‌য়ে যাই য‌দি নির্জ‌নে
‌গে‌য়ে যাব গান জীবনান‌ন্দের মত ,
অব‌হেলা অস্বীকার ক‌রে য‌দি লো‌কে
করুক না ইচ্ছে যত ।
আমার কাজ ক‌রে যাব আমি
প্র‌তিদা‌নের আশা মোর নেই ,
যত‌দিন বেঁ‌চে র‌বো পৃ‌থিবীর বু‌কে
আমার কর্তব্য কর্ম ক‌রে যাব এভা‌বেই ।


                ~:  ম‌নে প‌ড়ে তোমা‌কে :~ ৭২

ম‌নে প‌ড়ে তোমা‌কে অবসর সম‌য়ে
ছু‌টির দি‌নে নির্জনতা পে‌লে ,
যখন একা একা প‌থে চ‌লি
‌দে‌খি যখন ছে‌লেরা মা‌ঠে খেলা খে‌লে ।
‌শিউলী ঝরা‌নো দি‌নে ,সবু‌জের সমা‌রো‌হে
যখন কাঁশফু‌লে দোলা ল‌া‌গে নদীর চ‌রে ,
বৃ‌ষ্টি প‌ড়ে একটানা একাধা‌রে
তখন তোমা‌কে বড় মনে প‌ড়ে ।
‌হেম‌ন্তের গোধূলী বেলায় যখন রাখাল ফি‌রে ঘ‌রে
শী‌তের হি‌মেল হাওয়ায় যখন পাতা প‌ড়ে ঝ‌রে ,
বস‌ন্তে ডা‌কে কো‌কিল ,ফুল ফোটা শুরু ক‌রে
‌তোমার কথা তখন বে‌শি ম‌নে প‌ড়ে ।
‌নিঝুম রা‌তে শু‌নি‌লে বাঁ‌শির সুর
হাহাকার ক‌রে হৃদয় একাকী ঘ‌রে ,
শু‌নি‌লে পিউকাহা পা‌খির আর্তনাত
‌তোমার কথা ম‌নে প‌ড়ে ।
শরৎ বাবুর গল্প প‌ড়ি যখন
যখন প‌ড়ি জীবনান‌ন্দের ক‌বিতা ,
গভীর আবে‌গে ম‌নে প‌ড়ে তোমা‌কে
তু‌মি তো কখ‌নো জান‌বে না তা ।
মুছ‌তে চে‌য়েও অতীত স্মৃ‌তি
মুছা কভু গেল না আর ,
হয়‌তো কভু ম‌নে ক‌রে দেখ ন‌া আমা‌কে
শুধু তে‌ামা‌কে ম‌নে প‌ড়ে আজও বার বার ।


             ~: ফি‌রে যাই :~ ৭৩

আজও ফি‌রে যাই আমার অতী‌তে
নির্জন পা‌খি ঘুঘুর ডা‌কে ,
পল্লীর সৌন্দ‌র্যে ফি‌রে পাই
আমার হা‌রি‌য়ে যাওয়া মা‌কে ।
স্ব‌প্নের ঘো‌রে ম‌নের গভী‌রে ভা‌সে
‌যেন কার চেনা চেনা মুখ ,
যখন শরৎ আসে বাংলার মা‌টি‌তে
‌নির্মল বাতা‌সে ভ‌রি বুক ।
‌চৈত্র মা‌সের চন্দ্রীমা রা‌তে ফি‌রে যাই
আবার আমার ছোট বেলায় ,
‌শিশুকালই সেরা কাল
‌কে‌টে যেত সময় নানান খেলায় ।
কাল বৈশাখীর সময় এলেই
অতীত খুব ম‌নে প‌ড়ে ,
‌সেই বা‌ল্যের সাথীরা নেই আজ তারা
যা‌দের সা‌থে আম কুড়াতাম বৈশাখী ঝ‌ড়ে ।
শরৎ প্রভা‌তে শু‌নি ঢা‌কের বোল
সানাই বে‌জে ও‌ঠে ,
‌ফি‌রে যাই আমার অতী‌তে
যখন শিউলী কা‌মিনী ফো‌টে ।
‌মে‌ঠো প‌থে একাকী চ‌লি যখন
তখন আমার অতী‌তে ফি‌রে যাই ,
অতী‌তের সেই দিন গু‌লি আবার
গভীর আবে‌গে কা‌ছে পে‌তে চাই ।


              ~: ঘর থে‌কে দেখা :~ ৭৪

আম‌ার ঘর থে‌কে পড়ার আসন থেকেই
‌দেখ‌তে পাই চেহারাটা প্রকৃ‌তির ,
পূ‌বে খোলা মাঠ,‌বিশাল আক‌াশ,ধান ক্ষেত,আখ ক্ষেত,বাঁশ বন,কাঁশ বন ,একটু দু‌রে নদী তীর ।
পড়ার আস‌নে বস‌লেই দু‌রে যায় দৃ‌ষ্টি
সারাক্ষন ঘ‌রে ঢো‌কে নির্মল হাওয়া ,
‌চো‌খে প‌ড়ে লো‌কের আসা যাওয়া ,পা‌খির ঝাঁক,
কাঁশফুল ,ভাটফুল ,মা‌ঝির নৌকা বাওয়া ।
এম‌নি ক‌রে ঘর থে‌কে দেখ‌তে পাই
বাই‌রের খোলা জগৎ ,প্রকৃ‌তি অনন্ত ,
ঘ‌রে ব‌সেই টের পাই
কখন আসে শীত কখন বসন্ত ।
এ ঘরটা আমার খুবই প্রিয়
গরম লা‌গে না গ্রীষ্ম যখন আসে ,
ঘ‌রে ঢো‌কে নির্মল হাওয়া
শরীর জুড়াই শীতল বাতা‌সে ।
জানালা দি‌য়ে তা‌কি‌য়ে থা‌কি
যখ‌নি পাই একটু অবসর ,
প্রকৃ‌তির লীলা দে‌খি ঘর থে‌কেই
এম‌নি ক‌রে সারাটা বছর ।


     ~: শর‌তের সকাল :~ ৭৫

সবুজ সবুজ আর সবুজ
চা‌রি‌দি‌কে সবু‌জের মেলা ,
সব‌চে‌য়ে খু‌শি লা‌গে,হৃদ‌য়ে আনন্দ জা‌গে
শর‌তের সকাল বেলা ।
শর‌তের সকা‌লের প্রকৃ‌তি
সব‌চে‌য়ে সুন্দর নির্মল ,
হাওয়া টুকু যেন স্বর্গসুধা
ব‌য়ে যায় অবিরল ।
সর্বত্র শুচিতা ভাব
হালকা শি‌শির জ‌মে ঘা‌সে ,
বুঁনো হা‌সেরা নী‌ড়ে ফি‌রে
খু‌শির ছোঁয়া চা‌রিপা‌শে ।
‌মেঘ ডি‌ঙি‌য়ে সূর্য ও‌ঠে
‌মোরগ ফু‌লের মত ,
আনন্দ পিপাসুরা ঘু‌রে শরৎ সকা‌লে
চ‌লে অবিরত ।
‌নৌকার হালখু‌লে মা‌ঝি ব‌সে নৌকায়
আন‌ন্দে মন আছে মে‌তে ,
বন‌বিড়াল রা‌তের টহল শে‌ষে
লুকায় কাঁশব‌নে আখ‌ক্ষে‌তে ।
শর‌তের সকা‌লে বা‌গিচায়
ঝ‌রে থা‌কে কত ফুল ,
‌ছে‌লে মে‌য়েরা কুঁড়া‌তে আসে
‌শেফালী বকুল ।
শর‌তের সকা‌লে আকা‌শে
কত র‌ঙের খেলা ,
পা‌খিরা উড়ে যায় দু‌রে
কত স্নিগ্ধ শান্ত সকাল বেলা ।
হালক‌া শি‌শির জ‌মে ঘা‌সে
প‌ড়ে হালকা কুয়াশা ,
শর‌তের সকা‌লে কি‌যে ভাল লা‌গে
ম‌নে জা‌গে কত স্বপ্ন কত আশা ।


          ~: শ্রাবণী মেঘ :~ ৭৬

প‌রিস্কার আকাশ উত্তপ্ত বাতাস
‌নেই মে‌ঘের চিহ্ন ,
ধা‌নের চারা রোপন ক‌রে কৃষক
ক‌চি সবুজ বর্ণ ।
এ‌কি তাপ ,বাপ‌রে বাপ
‌পিঠ পু‌ড়ে যায় ,
প‌থিক চ‌লে মাথায় ছাতা দি‌য়ে
এ‌যে  গ্রী‌ষ্মের খরতাপ‌কেও হার মানায় ।
গরু ছাগল হাঁপায় শুধু
ছায়ায় শু‌য়ে জাবর ক‌া‌টে ,
এই গরম কৃষা‌ণের অসহ্য
পা‌রে না তারা থাক‌তে মা‌ঠে ।
জ‌মি‌নের জল ফু‌টে আপ‌নি
মা‌ছেরা বু‌ঝি ম‌রে ,
ঝাঁক বেঁ‌ধে ছু‌টে চ‌লে
শীতল জ‌লের আশে বাঁচার ত‌রে ।
জ‌মিনের জল শু‌কি‌য়ে যায়
কৃষক ছা‌ড়ে দীর্ঘ নিশ্বাস ,
পাড়ার লো‌কে মাগন ক‌রে
জল চায় ,এই‌তো শুধু আশ ।
এমন ক্ষ‌ণে সাড়া দি‌তে
ছু‌টে আসে শ্রাবণী মেঘ ,
ঝর ঝর বা‌রি ঝ‌রে
বা‌রি পা‌তের সে কি বেগ !
মুহূ‌র্তে ভ‌রে যায় মাঠ ঘাট
যত খাল বিল ,
সারাটা আকাশ মে‌ঘে ঢে‌কে যায়
‌কোথাও ফাঁকা নেই এক তিল ।
কৃষ‌কের ভরসা প্রকৃ‌তির আশীর্বাদ
জলপূর্ণ শ্রাবণী মেঘ ,
ঝর ঝর বা‌রি ঝ‌রে
বা‌রি পা‌তের সে‌কি বেগ ।


           ~: বি‌চিত্র জীবন :~ ৭৭

জীবনটা কি ?
সু‌খের স্থান না‌কি দুঃ‌খের হাট ,
ব্যদনা বির‌হে গাঁথা মালা
না‌কি ক্ষ‌ণি‌কের প‌রিচয় ভাল লাগা সাক্ষাৎ।
জীবনটা কি ?
আপন গ‌তি‌তে বে‌ড়ে ওঠা তরু ,
সবুজ মাঠ ,মুক্ত নীলাকাশ
না‌কি সাহারা মরু ।
জীবনটা কি ?
‌খেলা শে‌ষে জনশূন্য মাঠ ,
ভাঙ্গা গড়ার খেলা
না‌কি প‌থি ম‌ধ্যে প‌থি‌কের সাক্ষাৎ ।
জীবনটা কি ?
স্মৃ‌তির খাত‌া না প্রেম ভালবাসা ,
যু‌দ্ধের ময়দান বা রঙ্গমঞ্চ
না‌কি একটু ভীরু আশা ।
জীবনটা কি ?
শুধু সংগ্রাম আর সংগ্রাম বাঁচার জন্য ,
না‌কি হাহাকার ,আফ‌সোস , আর্তনাত
অথবা প্রাচু‌র্যের অরণ্য ।
জীবনটা কি ?
‌ভো‌রের ফোটা ফুল ,সাঁ‌ঝে ঝ‌রে যাওয়া ,
নদীর স্রোত নদীর বু‌কে
না‌কি একটু শীতল হাওয়া ।


           ~: মধুসূদন :~ ৭৮

জীব‌নের সব ভুল ভে‌ঙে যায় যখন সময় আসে
ত‌বে দি‌তে হয় তার যথার্থ মাসুল ,
‌তোমা‌কেও দি‌তে হ‌য়ে‌ছিল ভু‌লের মূল্য
যখন ভে‌ঙে ছিল জীব‌নের ভুল ।
আজ তব না‌মে ক‌রিব না অপমান
তু‌মি তো ছি‌লে সোনার চে‌য়েও খাঁ‌টি ,
জীব‌নের ভুল ভে‌ঙে ফি‌রে এসেছ স্ব‌দে‌শে
ভাল‌ বে‌সেছ স্ব‌দে‌শের মা‌টি ।
সুদূর ফ্রা‌ন্সে গি‌য়েও ভুল নি কভু
বা‌ল্যের সখা বাংলার ক‌পোতাক্ষ নদ‌কে ,
অব‌শে‌ষে ভুল ভে‌ঙে ফি‌রে এসে
বদ‌লে দি‌লে সা‌হি‌ত্যের পট‌কে ।
জীব‌নের অভিজ্ঞতায় অভিজ্ঞ হ‌য়ে
মাতৃসা‌হি‌ত্যে হাত দি‌লে যাদুক‌রের মত ,
নাট‌কে ,কা‌ব্যে এনে দি‌লে প‌রিবর্তন
কর্তব্য কর্ম ক‌রে গে‌লে অবিরত ।
বাংলা স‌নে‌টের স্রষ্ঠা তু‌মি ,নাট্য সা‌হি‌ত্যের প‌থিকৃৎ; স্বর্ণাক্ষ‌রে লিখা র‌বে তোমার অবদান ,
অবমাননা ক‌রিব না কোন‌দিন তোমা‌রে
গা‌হিব তোমার জ‌য়োগান ।
যত‌দিন পৃ‌থিবী র‌বে দাঁড়া‌য়ে ঠাঁয়
বাংলা সা‌হি‌ত্যে নাটক স‌নেট র‌বে ,
ত‌তো‌দিন তু‌মি বেঁ‌চে র‌বে পৃ‌থিবীর বু‌কে
‌তোমা‌রে স্ম‌রি‌বে মানুষ স‌বে ।
‌হে শ্রেষ্ঠ বাঙা‌লি ক‌বি
বাংলা সা‌হিত্য পে‌য়ে‌ছে প্রাণ তোমার ছোঁয়ায় ,
‌তোমার অবদান কি ভু‌লি‌তে পা‌রি
কভু কি তোমায় ভোলা যায় ?


              ~:  বর্ষা বিদায় :~ ৭৯

সময় এলো বিদা‌য়ের তাই
বর্ষা বিদায় নি‌য়ে যায় ,
‌সৈন্য সামন্ত রক্ষীরা সব সেঁ‌জে‌ছে বিদায় সাঁ‌জে
ব‌সে‌ছে উঠিয়া মে‌ঘের পাল তোলা নায় ।
পাট কাটাও শেষ ,ধান রোপনও শেষ
তাই ,
চা‌রি‌দি‌কে দেখি হালকা সবুজ
ভরা খাল বিল পুকুর নদী যে‌দি‌কে তাকাই ।
শর‌তের আগমন আর বর্ষা বিদা‌য়ের ল‌গ্নে
‌বেজে ও‌ঠে বিদায়ী আগমনী গান ,
বর্ষা মে‌য়ের করুন ক্রন্দন থে‌মে গে‌ছে
প‌ড়ে গে‌ছে নদীর উতলা বাণ ।
যত নোংরা আবর্জনা গ্লা‌নি মু‌ছে দেয় বর্ষা
যাবার বেলা শু‌চি শুভ্র প‌বিত্রতা ক‌রে দান ,
আশা ভরষায় ভ‌রি‌য়ে দি‌য়ে যায় দেশ‌কে
ক‌ন্ঠে বা‌জে আজ বর্ষা বিদা‌য়ের গান ।
বর্ষা মে‌য়ে দেশ‌কে উপহার দেয়
সবুজ শ্যামলীমা ,ক‌চি সবুজ ধান ,
‌বি‌লে ঝি‌লে ফু‌টে শাপলা পদ্ম
‌দো‌য়েল কো‌য়েল গায় বিদা‌য়ের করুন গান ।
বর্ষা প্রাচু‌র্যে ভ‌রি‌য়ে দেয় দেশটা‌কে
তার পর চ‌লে যায় বিদায় নি‌য়ে ,
সবুজ শ্যামলীমায় সা‌জি‌য়ে দেয় দেশ‌কে
তার সবটুকু সামর্থ দি‌য়ে ।


         ~: শর‌তের আগমন :~ ৮০

বর্ষার করুন ক্রন্দন এক‌দিন থে‌মে যায়
সাদা ছেঁড়া মেঘ আকা‌শে ভা‌সে ,
সবার অল‌ক্ষ্যে শি‌শির ভেজা পা‌য়ে
শরৎ বাংলার মা‌টি‌তে এগি‌য়ে আসে ।
শরৎ আসে বাংলার মা‌টি‌তে প্রশান্ত মাধুর্য নি‌য়ে
‌শিউ‌লি ছাপা‌নো শা‌ড়ি প‌রে,ধা‌নের মঞ্জু‌রি নি‌য়ে,
সবু‌জের সমা‌রোহ আর চন্দ্রা‌লো‌কিত রাত নি‌য়ে
মুক্ত নীলাকাশ আর খোঁপায় কাঁশ ফুল দি‌য়ে ।
নীলাম্বরী শা‌ড়ি প‌রে চে‌য়ে থা‌কে আকাশ
শরৎ নি‌য়ে আসে তারা ফোটা মধুর যা‌মিনী ,
শরৎ কে ব‌রি‌তে খা‌লে বি‌লে ফো‌টে
শাপলা কমল, শেফালী কা‌মিনী ।
শরৎ আসে রাণীর বে‌শে মে‌ঘের পাল তোলা নায়
সা‌থে নি‌য়ে আসে হালকা শি‌শির আর কুয়াশা ,
মানু‌ষের ম‌নে এনে দেয় শা‌ন্তি স্বপ্ন
সুখ সমৃ‌দ্ধির আশা ।




           ~: বর্ষণ মুখর সন্ধ্যা :~ ৮১

কখন যে সূর্য ডু‌বে গে‌ছে
পা‌খিরা ফি‌রে‌ছে ঘর ,
সন্ধ্যার ছায়া নে‌মে‌ছে চা‌রি‌দি‌কে
বৃ‌ষ্টি পড়‌ছে একটানা ঝর ঝর ।
জন মানব ঘ‌রে ফি‌রে এসে‌ছে
গরু ছাগল র‌য়ে‌ছে গোয়া‌লে বাঁধা ,
আজ যেন অতি তাড়াতা‌ড়ি
গৃ‌হিনীর হ‌য়ে‌ছে ভাত রাধা ।
বৃ‌ষ্টির রেশ বাড়‌ছে শুধু
বৃক্ষরা চ‌লে‌ছে নে‌য়ে ,
তাড়াতা‌ড়ি সবাই বিছানায় উঠে‌ছে
‌পেট পু‌রে ভাত খে‌য়ে ।
‌বিজলী চমকায় বৃ‌ষ্টি পড়‌ছে
বইছে শীতল হাওয়া ,
এই বর্ষণ মুখর সন্ধ্যার লগ‌নে
হ‌বে বু‌ঝি আজ বৃ‌ষ্টির গান গাওয়া ।
গুরু গুরু মেঘ ডা‌কে
কা‌নে আসে বা‌রি পা‌তের আওয়াজ ,
ম‌নে হয় মহাকাল থে‌মে গে‌ছে
হঠাৎ ক‌রে আজ ।
আজ অন্য কোন আওয়াজ নেই
শুধু বৃ‌ষ্টি প‌ড়ে ,বায়ু ক‌রে শন্ শন্ ,
এমন ল‌গ্নে ম‌নে আসে কত কথা
উদাসী হ‌য়ে যায় মানু‌ষের মন ।

Pages