২৬.০৩.২০২০
সবাইকে ঘরের মধ্যে থাকতে বলা হচ্ছে অথচ পোশাক শিল্প সহ আরো অনেক কলকারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি । শনিবার থেকে যথারীতি অফিসে যেতে বলা হয়েছে । সেই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট কোন বক্তব্য নেই । আমি পোশাক শিল্পের ক্ষুদ্র একজন কর্মচারী হিসেবে বলতে চাই, আমার মত যারা এসব শিল্পে কর্মরত তাদের জীবনের কি কোনই মূল্য নেই ? আমাদের কে বাহিরে রেখে কি করোনা মোকাবেলা করা সম্ভব নাকি করোনা করুণা করে আমাদের আক্রমন করবে না ?
যারা পুলিশের লাঠিপেটার পক্ষে , সেই সব মহাজ্ঞানীদের বলতে চাই ,পোশাক শিল্প সহ নানা রকম শিল্প কারখানা এখনো বন্ধ ঘোষণা করা হয় নি ,আগামী শনিবার থেকে যথারীতি অফিস করতে হবে । প্রধানমন্ত্রীর গতকালের বক্তব্যে ৫০০০ কোটি টাকা প্যাকেজের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে ,বন্ধের কথা নেই ।আগে বন্ধ করতে বলেন ,তার পর লক ডাউন করতে বলেন ,তার পর পুলিশের লাঠিপেটাকে সমর্থন করেন ।
যারা পুলিশের লাঠিপেটার পক্ষে , সেই সব মহাজ্ঞানীদের বলতে চাই ,পোশাক শিল্প সহ নানা রকম শিল্প কারখানা এখনো বন্ধ ঘোষণা করা হয় নি ,আগামী শনিবার থেকে যথারীতি অফিস করতে হবে । প্রধানমন্ত্রীর গতকালের বক্তব্যে ৫০০০ কোটি টাকা প্যাকেজের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে ,বন্ধের কথা নেই ।আগে বন্ধ করতে বলেন ,তার পর লক ডাউন করতে বলেন ,তার পর পুলিশের লাঠিপেটাকে সমর্থন করেন ।
একই দেশে দুই রকম নীতি থাকতে পারে না ।
যারা ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরেছে তাদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখবেন । আর যারা গ্রামে ফিরে গেছেন ,দয়া করে কয়েক দিন নিজ দায়িত্বে বাড়িতেই থাকুন ,এতে করে সবার মঙ্গল হবে ।
যত ক্ষন পর্যন্ত পোশাক শিল্প সহ অন্যান্য কল কারখানা বন্ধ ঘোষণা করবে না ,ততক্ষণ পর্যন্ত লক ডাউন সম্ভব হবে না ।
বিপদে নানা রকম গুজব ছড়াতে আমরাই সেরা ! বিপদেও আমরা মজা করতে ছাড়ি না । অতএব গুজব থেকে সাবধান । সতর্ক হোন,নিরাপদে থাকেন ।
২৭.০৩.২০২০
আমি শিহরিত, বিস্মিত, আনন্দিত, গর্বিত, পরিতৃপ্ত, আবেগাপ্লুত, চমকিত, ঝমকিত, সচকিত, হতচকিত, অভিভূত, উৎকলিত... কী বলব? যতই বলি কম হয়ে যাবে।এই অল্প বলার কারণে— আমি লজ্জিত, আশাহত, ভাগ্যহত, লুণ্ঠিত, কুণ্ঠিত, অবগুণ্ঠিত, চিন্তিত, কলঙ্কিত, অধিক্ষিপ্ত... বেশি বলে ফেললাম নাকি?বেশি বলার কারণে— আমি...(আবার শুরু থেকে পড়েন) । এখনো বন্ধ ঘোষণা বিবেচনায় আটকে রয়েছে শুনে এমন কমেন্টস্ ,যখন ঘোষণা ফাইনাল হবে বাকিটা পড়ে লিখব !
আসুন দেশের এ সংকটময় সময়ে যে যার অবস্থান থেকে একে অপরকে সাহায্য ও সহায়তা করি । আমরা বিভিন্ন ভাবে একে অপরকে সহায়তা করতে পারি । নিজ দায়িত্বে সরকার ঘোষিত নিয়ম গুলো মেনে আমরা সরকার কে সহায়তা করতে পারি । আশে পাশের লোক জনকে সচেতনতা মূলক পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করতে পারি । সামর্থ্য থাকলে সাবান,মাস্ক,হ্যান্ডওয়াশ,স্যানিটাইজার ,মেডিসিন সহ নানা প্রকার প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে সাহায্য করতে পারি । যাদের আর্থিক দিক ভাল,তারা দুস্থ ও অসহায় মানুষদের চাল,ডাল,সবজি সহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্য নিয়ে সাহায্য ও সহায়তা করতে পারি । দেশ ও দশের সেবা করার সুযোগ সব সময় হয় না । দেশের এ ক্রান্তি লগ্নে আমরা যদি আমাদের মেধা,ধন -সম্পদ কাজে লাগাতে না পারি তবে এরকম সুযোগ বার বার পাব না । বর্তমানে প্রচার প্রচারণার অনেক মাধ্যম রয়েছে । আমরা মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে,ফেস বুক ও ইন্টারনেটে পরামর্শ ও সচেতনামূলক প্রচার প্রচারণা করতে পারি । ডাক্তার,নার্সরা যখন জীবন বাজি রেখে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন,আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যখন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের সেবায় লাফিয়ে পড়ছেন, তবে আসুন না আমরাও যে যার অবস্থান থেকে কিছু একটা করার চেষ্ঠা করি । জন্মেছি যখন, একদিন মরতেই হবে । ছোট্ট এ আয়ুষ্কালে বাঁচার মত বাঁচতে হয় । মানবতার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার মত কাজ কি কোথাও রয়েছে ?
ছিন্নমূল মানুষ ও রাস্তার পোষা প্রাণী গুলোর প্রতি আমাদের নজর দেওয়া উচিৎ । আমরা না হয় ঘরের মধ্যে থাকলাম ,ওদের কি হবে ?
২৮.০৩.২০২০
প্রমথ চৌধুরী বলেছেন,"পরীক্ষায় পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক নয় ।" শিক্ষিত হতে গেলে অনেক গুলো গুণাবলী থাকতে হয় । কিছু কিছু লোকের আচার আচরণ দেখে আর কথা বার্তা শুনে মনে হয় এরা কোন দিন মানুষ হবে না ।ছাত্র অবস্থায় যা পড়েছি এখন দেশের এই বিপদের দিনে সেই সব ভাব সম্প্রসারণ, কবিতা,প্রবন্ধের লাইন,এক কথায় প্রকাশ,প্রবাদ,বচন সবই মিলে যাচ্ছে । ছোট বেলায় পড়েছি, পশু জন্মগত ভাবেই পশু,মানুষ হতে গেলে মনু্ষ্যত্ব অর্জন করতে হয় । বিপদে মানুষ চেনা যায় । বিপদে বন্ধুর পরিচয় । জন্ম হোক যথা তথা,কর্ম হোক ভাল । দূর্জন বিদ্বান হলেও সর্বদা পরিত্যজ্য ।
এরকম কত কিছুই মনে পড়ে । আজ দেশের এমন বিপদের দিনে কিছু কিছু মানুষ সাহায্য সহায়তা তো দুরের কথা দেশ ও জাতির ভালর জন্য সরকার ঘোষিত নিয়ম গুলোই মানছে না । আমাদের এলাকার কয়েকজন ছাত্র ছাত্রী সাথে কিছু বড় ও ছোট ভাই মিলে স্বেচ্ছা সেবক হিসেবে এলাকার মানুষকে করোনা বিষয়ে সচেতন করার জন্য ও কিছু সাহায্য সহায়তা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্ঠা করে যাচ্ছে । তাদের এ মহৎ উদ্যোগকে কোন বিশেষণ দিয়ে প্রকাশ করা যাবে না ।
ঢাকা থেকে কিছু লোকজন ও ছাত্র বাড়িতে গিয়েছে বন্ধের সময় কাটাতে । তারা নাকি বাজারে ঘুরছে দল বেঁধে । মাঠে যাচ্ছে খেলতে । যেখানে সরকার থেকে বলা হয়েছে তারাও যেন বাড়িতে থাকে ,কোথাও বের না হয় , তারা করছে ঠিক তার উল্টো । আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই ,আপনারা একটু সচেতন হোন,সার্টিফিকেট গুলোর মর্যাদা রাখেন ।দয়া করে মানুষকে বিপদে ফেলবেন না । আজ ইতালির মত উন্নত দেশ করোনা কে সামাল দিতে পারছে না ,এদেশে সেই রকম পরিস্থিতি হলে আমাদের লাশের মিছিল আমরা আটকাতে পারব না । তাই দয়া করে নিয়ম গুলো মেনে চলুন । পারলে অন্যকেও সতর্ক করুন ।
২৯.০৩.২০২০
শুরু হয়ে গেলো রাস্তার ধারে পড়ে থাকা।
সিলেটের রাস্তার ধারে পড়ে থাকা ফিনল্যান্ডের নাগরিককে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হচ্ছে (সূত্রঃপ্রথম আলো )।
আমরা এতদিন টিভির পর্দায় এমন দৃশ্য দেখেছি আর হায় হায় করেছি । আমরা এখনো এর ভয়াবহতা বুঝতে পারছি না । আমরা এখনো সচেতন হচ্ছি না । কেউ কেউ সচেতনতার কথা বললে তাদেরকে পন্ডিত মনে করে উপহাস করছি ।
এখনো সময় আছে আমাদের সচেতন হওয়ার ,নিয়ম কানুন মেনে চলার । এখনো বেশি দেরি হয় নি । করোনা নামক ভয়ানক দৈত্যটার গতিপথ যদি আমরা পাল্টে দিতে না পারি তবে আমাদের দেশেও লাশের মিছিল শুরু হয়ে যাবে ।
সারা দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে এমনি ভাবে রাস্তার ধারে পড়ে থাকতে দেখা যাবে। তখন আমরা কেঁদেও কূল পাব না,কেউ টেনে তুলবে এমন কাউকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না;কেননা তখন যে বড্ড দেরি হয়ে যাবে ।
৩০.০৩.২০২০
আপনার হয়তো জানা হলোনা বাঙালিরা আপনাকে কত ভালোবাসে !!
চিরদিন কেউ বেঁচে থাকেনা ....আমরাও চলে যাবো একদিন |
আপনার অবদান কোনোদিন ভুলবোনা | ঐপারে ভালো থাকবেন স্যার |
কেন শিমুরা (কাইশ্যা) ২৯ মার্চ ২০২০ রাতে মৃত্যুবরণ করেন |
যে মানুষটি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে হাসি আর আনন্দে ভরিয়ে দিত ,তিনিও করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিরবিদায় নিলেন । এমন একটি খবর সত্যি খুবই মর্মাহত করে । ওপারে ভাল থাকবেন এটাই প্রার্থনা করি ।
রামায়ণ থেকে একটি শিক্ষা নেইঃ
সীতার জন্য মায়াহরিণ খুঁজতে রাম চন্দ্র গেলেন গৃহের বাহিরে । তখনি পড়লেন ছলনায় । ভাই লক্ষণ ডাক শুনে সীতা তো দিশেহারা । জোর করে পাঠাতে চায় রাম চন্দ্রের খোঁজে । লক্ষণ প্রথমে যেতে চায় না । সীতার ভর্ৎসনা শুনে শেষে যেতে বাধ্য হয় । তবে যাওয়ার আগে সীতার গৃহে একটা তীর দিয়ে নিরাপত্তা রেখা টেনে দিয়ে যায় । বলে যায়, গৃহের মধ্যে থাকলে সীতার কোন বিপদ হবে না । বাইরে থেকে কেউ ক্ষতি করার জন্য গৃহ মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে না । সীতা যেন কোন অবস্থাতেই গৃহের বাইরে বের না হয় । রেখা টা মূলত আজকের লক ডাউনের মত অবস্থা আর কি । রেখা টেনে দিয়ে লক্ষণ এক প্রকার সব কিছু লক ডাউন করে দিয়েছিল । সীতাকে বলেছিল গৃহে থাকতে যাকে হোম কোয়ারেন্টাইন বলা যেতে পারে । ওদিকে করোনা রূপী রাবণ এসে হাজির । যতক্ষণ সীতা গৃহের মধ্যে ছিল ,করোনা রূপী রাবণ আক্রমণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল । যেই সীতা লক ডাউন অমান্য করে লক আউট করেছিল ,সেই মুহূর্তেই করোনা রূপী রাবণ সীতাকে আক্রমণ অর্থাৎ হরণ করে নিয়ে গেল । সীতাকে রাবণ রূপী করোনার হাত থেকে উদ্ধারের ঘটনা কম বেশী সবারই জানা । কত প্রাণ,কত সংগ্রাম,কত যুদ্ধ ,কত কৌশলের পর সীতাকে উদ্ধার করা হয়েছিল । মাঝখান ঘটে গিয়েছিল কত বড় বিধ্বংসী ঘটনা । কত প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছিল সেই করোনা রূপী রাবণের সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে । এখানে রাবণের দোষ দেখলেই হবে না, সীতারও উচিৎ ছিল লক ডাউন মেনে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা । লক্ষণ রূপী সরকার,সচেতন মহল আমাদের এত বার লক্ষণ রেখা টেনে দিচ্ছে ,আমরা তা যেন মানতেই চাচ্ছি না । যেদিন রাবণ রূপী করোনা এসে আঘাত করবে সেদিন আর বাঁচার পথ থাকবে না । এখনো সময় আছে লক্ষণ রেখা মেনে চলি,রাবণ রূপী করোনার হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করি । সচেতন হই,অন্যকে সচেতন করি । সতর্কতা অবলম্বন করলে আমরা জয়ী হবই হব ।
৩১.০৩.২০২০
আসুন কিছু দিনের জন্য নন্দলাল হয়ে যাই । ঘরে শুয়ে বসে সময় কাটাই । যে করেই হোক জীবনটাকে তো দেশের জন্য বাঁচিয়ে রাখতেই হবে ।
নন্দলাল
_দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
নন্দলাল তো একদা একটা করিল ভীষণ পণ -
স্বদেশের তরে, যা করেই হোক, রাখিবেই সে জীবন।
সকলে বলিল, 'আ-হা-হা কর কি, কর কি, নন্দলাল?'
নন্দ বলিল, 'বসিয়া বসিয়া রহিব কি চিরকাল?
আমি না করিলে কে করিবে আর উদ্ধার এই দেশ?'
তখন সকলে বলিল- 'বাহবা বাহবা বাহবা বেশ।'
নন্দর ভাই কলেরায় মরে, দেখিবে তারে কেবা!
সকলে বলিল, 'যাও না নন্দ, করো না ভায়ের সেবা'
নন্দ বলিল, ভায়ের জন্য জীবনটা যদি দিই-
না হয় দিলাম, -কিন্তু অভাগা দেশের হইবে কি?
বাঁচাটা আমার অতি দরকার, ভেবে দেখি চারিদিক'
তখন সকলে বলিল- 'হাঁ হাঁ হাঁ, তা বটে, তা বটে, ঠিক।'
নন্দ একদা হঠাৎ একটা কাগজ করিল বাহির,
গালি দিয়া সবে গদ্যে, পদ্যে বিদ্যা করিল জাহির;
পড়িল ধন্য দেশের জন্য নন্দ খাটিয়া খুন;
লেখে যত তার দ্বিগুণ ঘুমায়, খায় তার দশ গুণ;
খাইতে ধরিল লুচি ও ছোকা ও সন্দেশ থাল থাল,
তখন সকলে বলিল- 'বাহবা বাহবা, বাহবা নন্দলাল।'
নন্দ একদা কাগজেতে এক সাহেবকে দেয় গালি;
সাহেব আসিয়া গলাটি তাহার টিপিয়া ধরিল খালি;
নন্দ বলিল, 'আ-হা-হা! কর কি, কর কি! ছাড় না ছাই,
কি হবে দেশের, গলাটিপুনিতে আমি যদি মারা যাই?
বলো কি' বিঘৎ নাকে দিব খত যা বলো করিব তাহা।'
তখন সকলে বলিল – 'বাহবা বাহবা বাহবা বাহা!'
নন্দ বাড়ির হ'ত না বাহির, কোথা কি ঘটে কি জানি;
চড়িত না গাড়ি, কি জানি কখন উল্টায় গাড়িখানি,
নৌকা ফি-সন ডুবিছে ভীষণ, রেলে 'কলিসন' হয়;
হাঁটতে সর্প, কুকুর আর গাড়ি-চাপা পড়া ভয়,
তাই শুয়ে শুয়ে, কষ্টে বাঁচিয়ে রহিল নন্দলাল
সকলে বলিল- 'ভ্যালা রে নন্দ, বেঁচে থাক্ চিরকাল।'

No comments:
Post a Comment